• সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

    জেলাপরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

     

    আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বরগুনা পাথরঘাটা উপজেলার সাধারণ সদস্য নির্বাচনে অংশ গ্রহন করা সাধারন আসনের দুই প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা এমএ খালেক ও সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হোসাইন পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (০৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে দশটার পাথরঘাটা হক মার্কেটে টিউবওয়েল মার্কার প্রার্থী এমএ খালেক এবং এবং বেলা সাড়ে ১১ টার সময় পাথরঘাটা কলেজের সাইক্লোন শেল্টারে তালা মার্কার প্রার্থী এনামুল হোসান সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ অভিযোগ করেন।

    এসময় টিউবওয়েল মার্কার প্রার্থী এমএ খালেক তালা মার্কার প্রার্থী এনামুল হোসেনের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ভোট ক্রয়, কোরআন শরীফ ছুঁইয়ে ও মসজিদে উঠিয়ে শপথ করা সহ নানা অভিযোগ এনে প্রার্থীতা বাতিল করার দাবি জানান।

    এম এ খালেক বলেন, বরগুনা-২ আসনের সাংসদ শওকত হাসানুর রহমান রিমনের উপস্থিতিতে ৯০ জন ভোটারকে ৩০ হাজার টাকা করে ২৭ লক্ষ টাকা প্রধান করে কোরআন শরীফ ছুঁইয়ে ভোট নিশ্চিত করতে শপথ করান এনামুল হোসাইন। অনেক ভোটার টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে এমপি রিমন টাকা নিতে বাধ্য করেন এবং প্রত্যেক ভোটারকে আরো এক লক্ষ করে টাকা দেবে বলে আশ্বস্ত করেন। এ সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।

    অভিযোগ অস্বীকার করে এনামুল হোসাইন বলেন, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা গত ১৮ সেপ্টেম্বর এম এ খালেকের প্রার্থীতা বাতিল ঘোষণা করেন। এর পর রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে এম এ খালেক আবেদন করলে বিভাগীয় কমিশনারও তার প্রার্থিতা অবৈধ বলে ঘোষণা করেন। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহার ও প্রতিক বরাদ্দের তারিখ নির্ধারণ থাকলে প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী না থাকায় তাকে জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে ঘোষণা করে। পরে তিনি উপজেলার সকল ভোটার ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও প্রিতি ভোজের আয়োজন করেন।

    কিন্তু হাইকোর্টে আপিলের পরে এম এ খালেকের প্রার্থিতা ফিরে পেলে চলতি মাসে ৪ তারিখ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রতিক বরাদ্দ দেন। আমি ৫ তারিখ থেকে নির্বাচনি নিয়ম মেনে কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করি। আমার প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী আমার জনপ্রিয়তা দেখে আমার এবং সাংসদ শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যা ও মানহানি তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সুষ্ট নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে। এ সংবাদ সম্মেলনে চল্লিশ জনের মতো ইউপি সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

    এবিষয়ে বরগুনা-২ আসনের সাংসদ শওকত হাসানুর রহমান রিমন জানান, পাথরঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, কাউন্সিলরসহ স্থানীয় কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান ও বেশ কয়েকজন মেম্বারদের নিয়ে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে কোন অর্থ লেনদেনের মতো ঘটনা ঘটেনি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান জানান, হাইকোর্টের নির্দেশের পর পাথরঘাটায় গত চার তারিখ প্রতিক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং নির্বাচন নিয়ম অনুযায়ী তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। নির্বাচনি আচরণ ভঙ্গের কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত আসেনি।

    প্রকাশিত শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২