Header Ads

parkview
  • সর্বশেষ আপডেট

    রংপুরে হামলা: ‘অপপ্রচার চালিয়ে আলোচনায় আসতে চেয়েছিল সৈকত’

      


    টঙ্গী থেকে গ্রেফতার দুই যুবক রংপুরের পীরগঞ্জের মাঝিপাড়ায় হামলা ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগে ঘটনায় লোকজন জমায়েত এবং তাদের উত্তেজিত করার কাজে সরাসরি জড়িত ছিলেন। র‌্যাব বলছে, গ্রেফতারকৃত দুই যুবকের একজন সৈকত মন্ডল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আলোচনায় আসতে চেয়েছিল। তবে আগেই গ্রেফতারকৃত পরিতোষ এবং উজ্জ্বলের নিজেদের দ্বন্দ্বের কারণেই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    শনিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।

    সৈকত মন্ডল এবং রবিউল ইসলামকে শুক্রবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর পাশে টঙ্গী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তাদের নিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আল মঈন জানান, গ্রেফতারকৃত সৈকত মন্ডল রংপুরে একটি কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী। আর রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থলের পাশের একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন। তাদের দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি এ ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়েও তথ্য দিয়েছে তারা।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃতরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অরাজকতা তৈরি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে এই হামলা-অগ্নিসংযোগ ঘটনা ঘটিয়েছে। তারাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে ঘটনাস্থলে জড়ো করে। 

    তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত সৈকত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে উত্তেজিত করে। এছাড়া সে উক্ত হামলা অগ্নিসংযোগের অংশগ্রহণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে। তার নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন এই হামলায় সরাসরি অংশ নেয়। সে-ই রবিউলকে নির্দেশনা দেয় মাইকিংয়ের মাধ্যমে লোকজন জড়ো করার জন্য। ঘটনার পরপরই সে আত্মগোপনে চলে যায়।



    আর রবিউল সম্পর্কে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, এই ঘটনার অন্যতম উসকানিদাতা রবিউল। সে সৈকতের কাছে নির্দেশনা পেয়ে মাইকিংয়ের দায়িত্ব তার এক আস্থাভাজনকে দেয়। আর নিজে ঘটনার সময় একটি উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে এই হামলায় সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে। পরে সে-ও আত্মগোপনে চলে গেছে। সে এসব কথা র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছে।

    সৈকতের সরাসরি রাজনৈতিক কোনও দলের সাথে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বা কোনও রাজনৈতিক দলের পদে নেই উল্লেখ করে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ঘটনা সম্পর্কে অনেক বিষয় আমরা তাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। 

    ঘটনার সূত্রপাতের বিষয়টি তুলে ধরে খন্দকার আল মঈন বলেন, আপনারা জানেন আগেই গ্রেফতারকৃত পরিতোষ এবং উজ্জ্বলের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণেই রংপুরের পীরগঞ্জের ঘটনার সূত্রপাত হয়। প্রথমত পরিতোষ একটি অবমাননাকর পোস্ট দেয়। পরে উজ্জ্বল পরিতোষকে নিয়ে একটি পোস্ট দেয়। গ্রেফতারকৃত সবাই সবার পূর্বপরিচিত। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, সৈকত মন্ডল এর আগেও এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। সৈকত একটি দুর্বল সময়ের জন্য অপেক্ষা করেছে। কুমিল্লার ঘটনার পরে ফেসবুকে বিভিন্ন সময় পোস্ট দিয়েছে এই সৈকত। সুযোগের সদ্ব্যবহার করে সে নিজের ফেসবুক পেজে অপপ্রচার চালিয়েছে। তার ফেসবুক পেজে ৩ হাজার ফলোয়ার বলেও জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

    তাদের এসব অপপ্রচার চালানো কিংবা হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল- এমন প্রশ্নে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সৈকত মন্ডল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য, নিজের একটা অবস্থান তৈরির জন্য এমন কাজ করে আসছিল। সে চাইছিল- যেন তার কথার গুরুত্ব তৈরি হয়। আর এসব কারণে সে তার ফেসবুক পেজে বিভিন্ন সময় উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। সরকারি যে কোনও ইস্যু, রাষ্ট্রের যে কোনও ইস্যুতে, বিশেষ করে কুমিল্লার ইস্যুর পর থেকে নিয়মিতই সে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে আসছিল।


    প্রকাশিত: শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad