Header Ads

parkview
  • সর্বশেষ আপডেট

    রাজশাহীর বাগমারা সাত ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত

    মুকুল হোসেন, বাগমারা-রাজশাহীঃ- নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার শিবনদীর টেংরা নামক স্থানের বাঁধ কেটে দেয়ায় রাজশাহীর বাগমারায় ৭ টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বন্যা কবলিত ইউনিয়নগুলো হলো, গোবিন্দপাড়া, নরদাশ, আউচপাড়া, শুভডাঙ্গা, সোনাডাঙ্গা, গনিপুর ও কাচারী কোয়ালীপাড়া। সোনাডাঙ্গা ও কাচারী কোয়ালীপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারি কোন কর্মকর্তা এখনো যায়নি বলে বন্যায় পানিবন্দি লোকজন জানিয়েছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতের কোন এক সময়ে মান্দা এলাকার কিছু স্বার্থপর মানুষ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধীর জন্য শিবনদীর টেংরা নামক স্থানের বাঁধটি কেটে দেয়। শিবনদীর টেংরা নামকস্থানের বাঁধটি কাটার সাথে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়। পানিবন্দি হয় হাজার হাজার মানুষ। নষ্ট হয় কয়েক লক্ষ একর আবাদী জমির ফসল। বন্যায় ভেসে যাওয়া ফসলগুলোর মধ্যে পান বরজ, মরিচ, সবজি ক্ষেত, আউশ ও আমন ধান উল্ল্যেখযোগ্য।

    এছাড়াও বন্যায় ভেসে গেছে শতশত পুকুরের মাছ। সোনাডাঙ্গা ও কাচারী কোয়ালীপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে মানুষের শোয়ারঘরেও পানি ঢোকে পড়েছে। কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানির নীচে তলিয়ে গেছে। এলাকার লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে, গরু, ছাগল নিয়ে বিভিণ্ন বাঁধে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে।

    বন্যা কবলিত এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধগুলো দুর্বলের কারণে সেখানে মানুষ আশ্রয় নিতে ভয় পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কোন বাঁধ বন্যার পানির কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে।

    কাচারী কোয়ালীপাড়া ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের আ.লীগ নেতা দুলাল উদ্দীন অভিযোগ করেন, তার এলাকার প্রতিটি গ্রামেই বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। লোকজন দিকবিদিক ছুটাছুটি করছে। সরকারী কোন কর্মকর্তা তাদের এলাকার লোকজনের খোঁজখবর নিতে যায়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।

    ধারণা করা হচ্ছে দুই একদিনের মধ্যে উপজেলার সকল ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বন্যার পানি ঢোকতে পারে বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন। এদিকে বন্যার পূর্বভাস পাওয়ার পর পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    বন্যা বাগমারায় প্রবেশ করায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সরকারী কর্মকর্তাদের জরুরী বৈঠক ডেকেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ। বুধবার বিকেলেই উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

    এছাড়াও বন্যার পূর্বভাসের কারনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে উপজেলা প্রশাসন। বন্যা কবলিত এলাকায় যে কোন দুর্যোগ দ্রুত মোকাবিলা করার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদের মুঠোফোনে যোগাযোগের করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সবেমাত্রই জানতে পারলাম। আমি ঘটনাগুলো দেখার জন্য বন্যা কবলিত এলাকায় যাচ্ছি। এছাড়াও বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।


    প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০

    Post Top Ad