• সর্বশেষ আপডেট

    পটিয়ার কচুয়াই ইউনিয়নের মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার হোতা বাচা,শাহেদ ও রুবেল বহালতবিয়ত

     

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃদক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় মাদক পাচার ও ওপেন সিক্রেটে মাদকের রমরমা ব্যবসায় সয়লাব হয়ে গেছে উপজেলার গোটা ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা। ধারা ছোঁয়ার বাহিরে রয়েছে চিহ্নিত মাদক কারবারি ও পুলিশের তালিকাভুক্ত দুর্ধর্ষ অস্ত্র চোরাচালানকারী সন্ত্রাসীরা। আট দশটি গুরুত্বপূর্ণ চাঞ্চল্যকর মাদক ও অস্ত্র মামলা চলমান থাকার পরেও চিহ্নিত আসামিরা মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা করে ঘুরে বেড়াচ্ছে বহালতবিয়তে। বিশেষ করে কচুয়াই ইউনিয়নের ওয়ার্ড গুলোতে বেসামাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় থানা ও জনপ্রতিনিধিদের কোন প্রকার তদারকি না থাকায় এমনটা হচ্ছে বলে অভিমত এলাকার বিশিষ্ট বাসিন্দাদের। 
    সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,২০২২ সালের ২৩ জুলাই র‍্যাপিড আ্যকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৭) এর কাছে হাতেনাতে ৩টি পিস্তল ১টি থ্রি কোয়ার্টার অস্ত্র ও ৩ রাউন্ড কার্তুজ সহ উদ্ধার প্রেক্ষিত আটক হয় পটিয়া থানাধীন কচুয়াই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছৈয়দ বৈদ্যর পুত্র আমানত উল্লাহ বাচা পরে পটিয়া থানায় মামলা রুজ হয়। তার অন্যতম সহযোগী বহু মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানকারী এবং সন্ত্রাসী মামলার আসামি একই ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহিদুল হক এর পুত্র (প্রায় ৭টি মামলার আসামি) শাহেদ ওরফে ছোট শাহেদ। অপর দিকে কচুয়াই ইউনিয়নের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের পঠানপাড়া এলাকার বাসিন্দা বধু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ রুবেল এর নেতৃত্বে গোটা উপজেলা জুড়ে জমজমাট মাদকের ও অস্ত্র ব্যবসা পরিচালনা হচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে এত এত মামলা অভিযোগ থাকার পরেও প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে অপরাধের বিশাল সাম্রাজ্য। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের বিপদগামী নেতাদের সহযোগিতার মাধ্যমে আমানত উল্লাহ বাচা জাতীয়তাবাদী দলের অঙ্গ সংগঠন যুবদলের নেতা হয়েও স্বাধীনভাবে মাদক ও অস্ত্র পাচারের ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। অপর দিকে ছোট শাহেদ ও রুবেল যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বলে খবর পাওয়া যায়। কক্সবাজারের  টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজশে এই মাদক কারবারিরা উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মাদকের রাজধানী গড়ে তুলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সামাজিক সংগঠক প্রতিবেদককে বলেন,কক্সবাজার টেকনাফের ইয়াবার পাশাপাশি পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে উত্তর জেলার রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ের সুড়ঙ্গ ব্যবহার করে কেলিশহর হয়ে গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে চোলাই মদ আসছে দক্ষিণ জেলার পটিয়া উপজেলায়। আর এসব  ব্যাবসায় নেপথ্যে নেতৃত্ব দিচ্ছে জেলার শীর্ষ মাদক কারবারিরা। ঐ সামাজিক সংগঠক আরও বলেন,গোটা পটিয়ায় প্রায় ২ শতাধিক স্পটে ইয়াবা ও মদ বিকিকিনি হচ্ছে। যা স্থানীয় সাধারণ এলাকাবাসীরা দেখেও কিছু উপায় খুঁজে পাচ্ছে না তাদের দাপট ও রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ের কারণে। বিভিন্ন মসজিদের ইমামগন বলেন এই মাদকের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে পারছে না সুশীল যুব সমাজ তাই বিভিন্ন ভাবে যুবকদের মধ্যে কিছু তরুণ জড়িয়ে পড়ছে এই মাদক সেবন ও ব্যবসায়। 
    সরাসরি নিজ নামে চিহ্নিত রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে এই সকল তালিকাভুক্ত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দমনের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি ওভার ফোনে বলেন,আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল পটিয়া থেকে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করা। যারা সরকারি রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে অন্য দলের কর্মী হয়ে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান করে বেড়াচ্ছে তাদের শক্ত হাতে দমন করা হবে। অন্য সব কিছুর মধ্যে ইয়াবা ও অস্ত্র ঠেকানো মুশকিল হয়ে পড়েছে তাই খুব কৌশলে এগুতে চাচ্ছি,ইতিমধ্যে উপজেলার পৌর মেয়র ও পৌর কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন গুলোর সব চেয়ারম্যানদের সাথে মিটিং করেছি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। মাদক কারবারি সে যে দলেরই হোক ছাড় দেয়া হবে না,শুধু কচুয়াই ইউনিয়ন নয় সবকটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড নজরে আছে, আমি প্রশাসনের কাছে খুব দ্রুত এদের তালিকা পাঠাবো যাতে তাদের আইনের আওতায় আনা হয় এবং সমাজের এই ব্যাধির উপশম হয়। এত তথ্য থাকার পরেও কিভাবে আমানত উল্লাহ বাচা,শাহেদ ওরফে ছোট শাহেদ ও মোহাম্মদ রুবেল এর মতো মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানকারী সন্ত্রাসীরা দিনদুপুরে মাদক ও সন্ত্রাসের সাম্রাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে সমস্ত বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি পটিয়া) মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম ওভার ফোনে বলেন,বিষয় টা নির্বাচনের পরে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে,চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে আবারও নতুন করে তালিকাভুক্ত ও নতুন করে জন্ম নেয়া মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানকারীদের তালিকা করে ধারাবাহিক ভাবে অভিযান পরিচালনা হচ্ছে এবং গোটা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সাংসদের পরিস্কার বক্তব্য যে, অপরাধী যদি আমার বাবা ভাইও হয় তবুও কোন ছাড় নয়।
    জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদ বলেন,অভিযান চলমান রয়েছে ঐ সকল অপরাধীরা আমাদের নজরে আছে,সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। অপরাধীর কোন দল নেই সে যে দলেরই হোক ধরা তাকে পড়তেই হবে। রবিবার ৩রা মার্চে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান পরিচালনা হয়েছে তার মধ্যে বাঁশখালীতে মামলা হয়েছে লোহাগাড়ায় অভিযান চলছে ও পটিয়াতে আমরা খুব দ্রুত অভিযান পরিচালনা করবো। পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন ওভার ফোনে বলেন,ডিআইজি স্যার ও চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মহোদয়ের আদেশ অনুসারে পাড়া মহল্লা গুলোতে আমাদের বিট পুলিশিং কার্যক্রম চলছে।প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিয়নে আমি নিজে যাচ্ছি এবং ধারাবাহিক ভাবে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, ইয়াবা মদ গরু মহিষ চুরি থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধ দমনে পটিয়া থানা পুলিশ সক্রিয়। কচুয়াই ইউনিয়নে আগে সবচেয়ে বেশি গরু মহিষ চুরি হয়েছে এখন তা অনেকটা কমে এসেছে। আর এই বিষয়টিও আমরা নজরদারিতে রেখেছি। স্থানীয় ভাবে খোঁজখবর নিয়ে আমরা তালিকাভুক্ত অপরাধী ও রাজনৈতিক আশ্রয়ে অপরাধ চালিয়ে যাওয়া চক্রের সদস্যদের সনাক্ত করছি এবং পাশাপাশি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করছি ও এ অভিযানের মাত্রা বাড়িয়েছি। আমাদের মাননীয় সাংসদ মহোদয়ের নির্দেশ রয়েছে মাদক সন্ত্রাস ইভটিজিং ইত্যাদি অপরাধের অপরাধীদের কোন ছাড় নেই সে যেই হোক।
    প্রকাশিত সোমবার ৪ মার্চ ২০২৪