• সর্বশেষ আপডেট

    স্বৈরাচারের ভূত কাঁধে নিয়ে সরকার প্রহসনের নির্বাচনের পাঁয়তারা চালাচ্ছে - বাম গণতান্ত্রিক জোট।

     

    স্বৈরাচার পতন দিবস উপলক্ষে বাম গণতান্ত্রিক জোট চট্টগ্রাম জেলা শাখার সমাবেশ ও মিছিল পুরাতন রেলস্টেশন চত্বরে বিকাল ৪ টায় অনুষ্ঠিত হয়।
    বাম জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার ইনচার্জ আল কাদেরী জয়ের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড মৃণাল চৌধুরী,জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড  মসিউদ্দোল্লাহ, বাসদ(মার্ক্সবাদী) জেলা সদস্য সচিব শফিউদ্দিন কবির আবিদ।সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন সিপিবি জেলা সভাপতি অশোক সাহা, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর,সহ সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছাফা ভূঁইয়া,বাসদ (মার্ক্সবাদী) জেলা সদস্য জাহেদুন্নবী কনক, আসমা আক্তার, বাসদ জেলা সদস্য আকরাম হোসেন,নুরুল হুূদা নিপুসহ বাম জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ নেতা আহমদ জসীম। 
    বক্তারা বলেন,"আজ থেকে ৩৩ বছর আগে জনগণের আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটে।কিন্তু পরবর্তী সময়ে শাসকগোষ্ঠীর  দ্বিদলীয় ব্যবস্থার নীতিহীন রাজনীতির  ফলে স্বৈরতান্ত্রিক অবসান হয় নি।এক স্বৈরাচারের বদলে আরেক স্বৈরাচার তৈরি হয়েছে।
    বর্তমান শাসকদল আওয়ামী লীগ গায়ের জোরে একতরফা নির্বাচনের আয়োজন করেছে। অবৈধ ও প্রহসনের তফসিল ঘোষণা করে আবারো ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পরিকল্পনা করছে। জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে এই নীতিহীন কাজের বৈধতা দিয়ে চলেছে।
    গত ১৫ বছরে তাদের দূর্নীতি ও দুঃশাসনের ফলে দেশে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা বলে দেশের পাট,চিনি শিল্পসহ কাঠামোগত ধ্বংস করা হচ্ছে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির আন্দোলনে ৪ জন শ্রমিককে হত্যা করেছে।নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেশকে আজ এক মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে।
    তফসিল ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন প্রার্থীর  তাদের দূর্নীতি ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের তথ্য বের হয়ে এসেছে। অন্যদিকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণার আগেই  বিভিন্ন প্রার্থীর উৎকট শোডাউন, ঢাকডোল  ও মাস্তানি চেহারা উন্মোচিত হয়েছেোল।এভাবে সুষ্ঠু,নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি না করে নির্বাচনকে যেন দলীয় উৎসবে পরিনত করেছে।ভোটের প্রার্থী সংখ্যা বাড়াতে নানা ধরনের কেনাবেচা হচ্ছে।  ডামি প্রার্থী,কিংস পার্টি ইত্যাদি কথার সমারোহে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও নীতিবোধকে ধ্বংস করা হচ্ছে। 
    অন্যদিকে দেশের সাধারণ মানুষের দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত বৃদ্ধিতে জীবন ও জীবিকা সংকটে পড়েছে। আয়ের সাথে ব্যয়ের কোনো ভারসাম্যই রাখতে পারছে।সিন্ডিকেট কারসাজি, টাকা পাচার,ব্যাংক লুট ইত্যাদির মাধ্যমে জনগণের পকেট কেটে সর্বস্বান্ত করেছে।
    এই পরিস্থিতিতে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। বামপন্থীদের নেতৃত্বে শ্রমিক কৃষক ও মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।"
    সমাবেশ শেষে একটা মিছিল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
    প্রকাশিত বুধবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩