• সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

    বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০, আইসিইউতে ছাত্রদল নেতা

     

    নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আইসিইউতে ভর্তি করা হয় দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেন রবিকে।

     বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাসিমন ভবনের সামনে মাঠে ও  নুর আহমদ সড়কে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে রোডমার্চ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা চলছিল।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর বিএনপির কর্মসূচিতে পটিয়ার সাবেক সাংসদ শাহজাহান জুয়েল দলীয় কার্যালয়ে আসেন। এ সময় পটিয়ার নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়। এর কিছুক্ষণ পর কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মীর হেলালের সঙ্গে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ সভায় যাওয়ার সময় তাকে ধাওয়া দেয় দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনামের অনুসারীরা। এ সময় মহানগর বিএনপির সদস্য গাজী সিরাজসহ নগর নেতারা হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করেন। এ ঘটনার জের ধরে এনাম অনুসারীদের পাল্টা হামলা করে মীর হেলালের অনুসারী নগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, আসিফ চৌধুরী লিমন, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম জনি, তকিবুল হাসান তকি। এরপর  সভা শেষে বের হওয়ার পথে হামলার শিকার হন এনাম অনুসারী দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেন রবি। তাকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় গাজী সিরাজ রবিকে হামলাকারীদের হাত থেকে ছাড়িয়ে দলীয় কার্যালয়ের ভেতর নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তাকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি আছেন। তবে ছাত্রদলের আহ্বায়কের উপর হামলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মীর হেলাল ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খানের ইন্ধনে রয়েছে বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের।

    জানা গেছে, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খান দীর্ঘদিন নিস্ক্রিয় দলীয় কর্মকাণ্ডে।  এনামুল হক জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হলে আরও কোণঠাসা হয়ে যান মোস্তাক। সম্প্রতি মোস্তাক আহমেদ খানের নেতৃত্বে বহিস্কৃত ও নিস্ক্রিয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েলের বাসায় বৈঠক করেন। এ বৈঠককে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন জেলার নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এ সংঘর্ষ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মোস্তাক আহমেদ রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মীর হেলাল উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

    প্রস্তুতি সভা চলাকালে দলীয় কার্যালয়ের সামনে দুই পক্ষের মারামারি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বাংলানিউজকে বলেন, কেন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে তা জানি না। তদন্ত করা হচ্ছে, পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।  

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির  বলেন, এখনো কেউ কোনো  অভিযোগ করেনি।
    প্রকাশিত বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩