• সর্বশেষ আপডেট

    আকবর শাহ’য় পাহাড় কেটে সরকারি জায়গা দখল করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা করছেন পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক জামাল

     


    চট্টগ্রামে প্রতি বছর বর্ষায় জেলা প্রশাসন বেশ কিছু পরিবারকে পাহাড় থেকে নামিয়ে আনলেও বিপুল সংখ্যক মানুষ রয়ে যায় পাহাড়ে। মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রামের আকবর শাহ এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে হাজার হাজার ছিন্নমূল ও ভাসমান মানুষ। আকবর শাহ থানাধীন, ৯ নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় অসংখ্য পরিবার পাহাড়গুলোতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে।

    ফলে প্রতি বছরই পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এরপরও থেমে নেই পাহাড়ে বসবাস। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভারী বর্ষণ হলে পাহাড় ধসের শঙ্কায় নগরের বিভিন্ন পাহাড়ে বসবাসরত মানুষদের সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেয়া হয়। চট্টগ্রামে পাহাড়ের ভেতরে বাস করা লোকজনের মধ্যে বেশির ভাগই অবৈধ। আকবর শাহ থানাধীন ৯ নং উত্তর পাহারতলী ওয়ার্ডের বেশির ভাগ এলাকা জুড়ে রয়েছে পাহাড়। এসব পাহাড়ের সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে বসবাস করছে অসংখ্য লোক। বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ হলেও এরা আবার যথাস্থানে ফিরে যায়। তবে পাহাড়ের ভেতর থেকে তারা কোথাও যায় না। এ অবস্থায় মৃত্যু ঝুঁকি বাড়লেও কিছুই করার থাকে না। পাহাড়ে থাকা এসব মানুষের কোনো স্থায়ী আশ্রয় নেই। এদের বেশির ভাগই চট্টগ্রাম শহরের বাইরে থেকে আসা আশ্রয়হীন মানুষ। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে খোলসে থাকা কিছু ব্যক্তি অবৈধ ভাবে রাতারাতি পাহাড় কেটে ঝুকিপূর্ণ ভাড়া ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে যাচ্ছে।

    বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, আকবর শাহ থানাধীন হারবাতলী এন ব্লক পার্কিং এর পাশের এলাকায় ২১৩ দাগের পাহাড় কেটে ঝুকিপূর্ণ ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেয়া ও সরকারি কালির ছড়া দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে খোদ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহবায়ক গাছ কবিরের ছেলে এডভোকেট জামাল উদ্দিন এর বিরুদ্ধে। স্বরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুকিপুর্ণ ভাবে পাহাড় কেটে কিছু ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পাশে রয়েছে সরকারি কালির ছড়া। সেই ছড়ার যায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়াও ৬৭২ দাগের কালির ছড়ার একটি লোপ পুরোপুরি ভরাট করে গড়ে তুলেছেন স্থাপনা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহবায়ক এডভোকেট জামাল উদ্দিন বলেন, আমি ছাড়াও এখানে অনেকে পাহাড় কাটে, পাহাড় কেটে যে স্থাপনা করা হয়েছে এগুলা আগের, এখন আর কাটা হচ্ছেনা, অনেক বছর ধরে এখানে ভাড়া ঘরগুলো করেছি, কখনো পাহাড় ধ্বস হয়নি। অন্যদিকে গোল পাহাড় সংলগ্ন গাউছিয়া আবাসিক এর মুখে পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণ করেন বাবলু নামের অপর এক ব্যক্তি, এছাড়াও স্বরেজমিনে গিয়ে আরও দেখা যায়, পাহাড়ের পাদদেশে পাহাড় কাটতে অপর একটি পাহাড়ে টিনের ঘেরা দিয়ে কেটে যাচ্ছে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর মহানগরের ইন্সপেক্টর মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২১৩ দাগের পাহাড় কেটে ঝুকিপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণ ও গাউছিয়া লেক সিটি আবাসিক এর মুখে পাহাড় কেটে বসতি নির্মান করায় পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহবায়ক এডভোকেট জামাল উদ্দিন এবং বাবলু নামের অপর এক ব্যক্তিকে পরিবেশ অধিদপ্তরে এসে এই বিষয়ে জবাব দিতে নোটিশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    উল্লেখ্য, গত সাত বছরে পাহাড় ধসে চট্টগ্রামে মারা গিয়েছে অন্তত ১৮০ জন। ২০০৭ সালের ১১ জুনে স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড় ধস ট্র্যাজেডিতে ১২৭ জন মারা যায়। ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট লালখান বাজার মতিঝর্ণা এলাকায় পাহাড় ধসে নিহত হয় ১১ জন। ২০১১ সালে নগরীর বাটালী হিলে পাহাড় ধসে ১১ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ২০১২ সালের ১ জুলাই নগরীর বাটালী হিল পাহাড়ের প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে প্রাণ হারায় ১৭ জনসহ বিভিন্ন স্থানে মারা যায় ২৪ জন। ২০১৩ সালে মতি ঝর্ণায় দেয়াল ধসে ২ জন, ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই বায়েজিদ এলাকার আমিন কলোনিতে ৩ জন এবং ২১ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ থানার মাঝির ঘোনা এলাকায় মা ও মেয়ে মারা যায়। ২০১৭ সালের ১২ ও ১৩ জুন রাঙামাটিসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের ৫ জেলায় প্রাণ হারায় ১৫৮ জন। ২০১৮ সালের ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের আকবরশাহের ফিরোজশাহ কলোনিতে ৪ জন মারা যায়। সূত্রঃ- লাখো কন্ঠ

    প্রকাশিত শুক্রবার ১৬ জুন ২০২৩