• সর্বশেষ আপডেট

    ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০৪ ঘণ্টা, উদ্ধারের পর হাসপাতালে মৃত্যু

     

    তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টা পর শনিবার চিকিসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে এক নারীর। সোমবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ১০৪ ঘণ্টা আটকে থাকার পর শুক্রবার তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

    তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের কিরিখান শহরের একটি ধ্বংসস্তূপ থেকে শুক্রবার তাকে খুঁজে পায় জার্মানির একটি উদ্ধারকারী দল। এত দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে তার বেঁচে থাকাকে  ‘অলৌকিক’ বলে অভিহিত করা হয়েছিল।

    ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হচ্ছে, ৪০ বছর বয়সী ওই নারীর নাম জায়েনেপ কাহরামান।
    জার্মান ইন্টারন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ দলের নেতা স্টিভেন বেয়ার বলেন, ‘এইমাত্র জেনেছি যে জেইনেপ দুঃখজনকভাবে হাসপাতালে মারা গেছেন।
    তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে গত সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এটির উৎপত্তিস্থল ছিল তুরস্কের উত্তরাঞ্চলে।

    ভূমিকম্পে তুরস্কের কয়েকটি শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। উদ্ধারকারীদের জোর তৎপরতায় ধ্বংসস্তূপে থেকে বেরিয়ে আসছে একের পর এক মরদেহ। এ পর্যন্ত দক্ষিণ তুরস্ক এবং উত্তর সিরিয়ায় সম্মিলিত মৃতের সংখ্যা ২৪ হাজার ছাড়িয়েছে।
    উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে থাকা এক চিকিৎসক পিটার কাব বলেন, ‘এ ধরনের জটিল উদ্ধার অভিযানের প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ঝুঁকি  বেশি  থাকে। ওই নারী ১০০ ঘণ্টার বেশি চাপা ছিলেন। তিনি কোথাও আটকে ছিলেন না, মাটি চাপা পড়েছিলেন। উদ্ধারকারীদের প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি।

    জায়েনেপকে উদ্ধারের বর্ণনায় পিটার বলেন, ‘প্রতিটি মানুষই তার প্রিয়জনের বাহুতে মাথা থেকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চায়। এ জন্য সে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বেঁচে থাকতে লড়াই করে। এ সময়ের প্রতিটা সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ।
    পিটার আরও বলেন, ‘উদ্ধার অভিযান শুরুর ১০ ঘণ্টা পর জায়েনেপই প্রথম ব্যক্তি যিনি আমাদের সঙ্গে যোগযোগ করতে পেরেছিলেন। তিনি তার পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন। পরিবারের সামনেই জায়েনেপ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

    জায়েনেপের পরিবার এর আগে রয়টার্সকে জানিয়েছিল যে সোমবারের ভূমিকম্পের দু’দিন পর উদ্ধারকারীরা সেখানে পৌঁছায়। উদ্ধারের আগ পর্যন্ত পাইপ দিয়ে তাকে হাইড্রেট করে রেখা হয়েছিল।
    সূত্র: রয়টার্স

    প্রকাশিত শনিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩