• সর্বশেষ আপডেট

    ৩০ কেজির বস্তায় ২৫ কেজি চাল, দায় নিচ্ছে না কেউ

     

    জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরের চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সুবিধাভোগীরা বলছেন, বস্তাপ্রতি চার থেকে পাঁচ কেজি করে চাল ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করেও কোনও সুফল মিলছে না। বাধ্য হয়ে যা দিচ্ছে তাই নিয়ে বাড়ি ফিরছেন তারা।

    মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার চরপুটিমারী ও চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের আটটি ডিলার পয়েন্টে দেখা যায়, ৩০ কেজির বস্তায় ২৫ থেকে ২৭ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। সুবিধাভোগীদের কেউ কেউ প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হচ্ছে না। তারা বাধ্য হয়ে ৪৫০ টাকা দিয়ে ৩০ কেজির বস্তায় কম চাল নিয়ে যাচ্ছেন।

    চরপুটিমারী ইউনিয়নের শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন কার্ডধারী বলেন, ‘প্রত্যেক বস্তায় ৩০ কেজি করে চাল থাকে। এক বস্তা চালের দাম ৪৫০ টাকা। আমাদের কাছ থেকে ৩০ কেজির দাম ৪৫০ টাকাই নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বস্তাপ্রতি ৪ থেকে ৫ কেজি করে ওজনে কম দিচ্ছে। চেয়ারম্যান, মেম্বার ও নেতাদের জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। আমরা গরিব মানুষ। আমাদের কথা কেউ শুনছে না। বাধ্য হয়ে কম চাল নিতে হচ্ছে।

    বস্তায় ৪-৫ কেজি করে চাল কম, প্রতিবাদ করেও লাভ হচ্ছে না
    চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের কার্ডধারী জাদু শেখ বলেন, ‘তারা চাল ওজনে কম দিচ্ছেন। আমরা গবিব মানুষ। আমাদের কিছুই করার নেই। ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি ডিলারকে জানালে বলছেন, গোডাউন থেকে আমরা যেমন বস্তা আনছি তেমনই দিচ্ছি।’

    জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলায় ৫৩টি নিয়োগকৃত ডিলারের মাধ্যমে ২৩ হাজার ৩৯৯ জন কার্ডধারী খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকার আওতায় রয়েছেন। 

    চরপুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ারচর বাজারের ডিলার ইমরান মিয়া বলেন, ‘আমি ওজনে কম দেবো কেন? গোডাউন থেকেই বস্তাপ্রতি ৪ থেকে ৫ কেজি করে ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে। আমরা এর প্রতিকার চাই। তবে আমাদের ভুল হয়েছে, গোডাউন থেকে সবগুলো বস্তা মেপে আনা উচিত ছিল। আমার এখানে মোট কার্ডধারীর সংখ্যা ৫০০।’

    ওই ইউনিয়নের ডিলার আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আমার মোট কার্ডের সংখ্যা ৩৯৫। প্রতি বস্তায় ২ থেকে ৩ কেজি করে চাল ওজনে কম ছিল। বিষয়টি গোডাউন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তারা এখানে এসেছিল। তাদের সামনেই ওজনে কম দিয়ে বিক্রি করেছি।’

    চর গোয়ালিনীর শফিকুল ইসলাম ও চরপুটিমারী ইউনিয়নের আরাকানুজ্জামান ও আবু রায়হানসহ একাধিক ডিলারের একই অভিযোগ। তারা বলছেন, ‘গুদাম থেকেই ২৫-২৬ কেজি ওজনের এমন বস্তা দেওয়া হয়েছে, আমরা কী করবো? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনও সমাধান হচ্ছে না। আমরাও চাই কার্ডধারীরা সঠিক ওজনে চাল পাক।’

    ইসলামপুর উপজেলার খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, ‘কীসের জন্য ওজনে কম দেবো? ডিলাররাই চাল ওজনে কম দিয়ে গোডাউনের অজুহাত দিচ্ছেন। আর তারা এমনটা কী কারণে করছেন জানি না। আমরা যখন চাল দিই তখন ডিলারদের ওজন করে সঠিকভাবে দেখিয়েই দিই। তারা মিথ্যা অভিযোগ তুললে আমার কিছু করার নেই।’

    তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো হুক দিয়ে বস্তা তোলায় ছিদ্র হয়ে দুই-চারটি বস্তার চাল পড়ে গেছে। এ কারণে চাল কমে যাতে পারে। তাছাড়া এত বেশি-কম হওয়ার কথা না।’

    চাল ওজনে কম দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জেলা প্রশাসক শ্রাবস্তী রায় বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধিকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
    প্রকাশিত বুধবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad