• সর্বশেষ আপডেট

    তারেক রহমানের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি না.গঞ্জ বিএনপির

     


    নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ১০ ইউনিট কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন জেলার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন ও সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ।

    কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দলের এক নেতার এক পদ নীতি মানা তো হয়ইনি, উল্টো জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি সব যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রায় সব সদস্যকে প্রতিটি থানা ও পৌরসভা ইউনিট কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্যরাই দায়িত্ব পেয়েছেন থানা ও পৌরসভার কমিটিগুলোতে। এতে দলের থানা ও পৌরসভা পর্যায়ের নেতাকর্মী ও তৃণমূলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

    খোদ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন নিজের স্বাক্ষরে নিজেই তারাব পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক বনে গেছেন। এ নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) রাতে জেলার অধীনে থাকা ৫টি থানা ও ৫ টি পৌরসভা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

    জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, নবনির্বাচিত কমিটির সবাইকে অভিনন্দন। তবে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ হয়নি, এতে বিতর্কের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। কারণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাত্র দুদিন আগে বহিষ্কার হয়েছেন। এরপর যিনি ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হলেন তিনিও কারাগারে। এরপরে যিনি দায়িত্ব পেলেন, তিনি দু’দিনের মাথায় ১০টি ইউনিট কমিটি কার সঙ্গে আলোচনা করে দিলেন? উনি এটা করতে পারেন বা দলীয় এমন নির্দেশনা আছে আমি বিশ্বাস করি না। একদম গোপনীয়ভাবে হয়েছে কমিটিগুলো। কারো সঙ্গে কোন আলোচনা করা হয়নি।

    তিনি বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সারাদেশে দলকে পুনর্গঠন করতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলেছেন, সেই প্রক্রিয়া এ ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়নি। আমাদের নেতা তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল সার্চ কমিটি ও মূল্যায়ন কমিটিতে যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাদের মতামতের ভিত্তিতে ও সবার সঙ্গে আলোচনা করে কমিটিগুলো স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় করতে হবে। এখানে তা হয়নি। কমিটি করার আগে আমাদের প্রতিটি থানায় টিম করা হয়েছিল, আমি কাঞ্চন পৌরসভার দায়িত্বে ছিলাম। সবার সঙ্গে আলোচনা করে আমার যে লিখিত তথ্য দেওয়ার কথা ছিল সেটা না নিয়েই তারা কমিটি দিয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা এখানে বাস্তবায়ন হয়নি। টিমের সুপারিশে কমিটি হবার কথা থাকলেও নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি।

    রাজীব বলেন, এই নির্দেশনা ছিল তারেক রহমানের। টিমের মতামত না নিয়ে কমিটি করা নিয়মের ব্যত্যয়। আর মাত্র দায়িত্ব পেয়েই দুদিনে কমিটি ও এখতিয়ার ওনার আছে কিনা সেটাও দেখার বিষয়। একজন ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক, তাকে কারাগারে রেখে তার সঙ্গে কথা না বলেই কীভাবে কমিটি দেয়?

    কমিটির একটি অসঙ্গতি তুলে ধরে তিনি বলেন, উনি (নাসির উদ্দিন) নিজে জেলার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হয়ে আবার নিজেই তারাব পৌরসভা কমিটিতে আহ্বায়ক পদ নিয়েছেন নিজের স্বাক্ষরে। সেই কমিটির কাগজ উনি নেতাকর্মীদের কাছ থেকে লুকাচ্ছেন। এভাবে লুকোচুরি করে বিএনপিতে কমিটি দেওয়ার কোন নিয়ম নেই। ওনার অভিজ্ঞতার অভাব আছে, সেটা এখানে স্পষ্ট। জেলা বিএনপির সর্বোচ্চ নেতাকে বহিষ্কার, পরবর্তী নেতা জেলে এভাবে গোপনে একদিনে কমিটি দেয়া ঠিক নয়। এতে যথেষ্ট বিতর্কিতদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ম বহির্ভূতভাবে করা হয়েছে। এখানে অন্তত একটি মিটিং করার দরকার ছিল। মূল্যায়ন কমিটি, সার্চ কমিটির তো কোন মূল্যায়ন করা হয়নি, দেওয়াও হয়নি। এখানে ব্যক্তি উদ্দেশ্য চরিতার্থ এবং দলীয় স্বার্থ জলাঞ্জলী দেওয়া হয়েছে।

     

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ বলেন, আমরা কমিটি অনুমোদন করেছি সবাইকে সমন্নয় করে। কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি। প্রতিটি কমিটি ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি। এখানে জেলা কমিটির অনেকে স্থান পেয়েছেন।

    আর ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাসিরউদ্দিন জানান, আমরা দায়িত্ব পাবার পর কেন্দ্রীয় নির্দেশে দ্রুততম সময়ে তিনদিনের মধ্যে কমিটি অনুমোদন করতে পেরেছি। এটা আমাদের সফলতা বলে আমি মনে করি। আশা করছি কমিটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। তারাব পৌরসভা কমিটি নিয়ে কিছুটা সমস্যা আছে, তাই এটার কাগজ আমরা প্রেসে দেইনি। এটা আমরা দেখছি।


    প্রকাশিত: সোমবার ২২ জানুয়ারি ২০২২

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad