Header Ads

parkview
  • সর্বশেষ আপডেট

    কোভিড পরবর্তী সস্তা শ্রমের কারণে শিশুশ্রম বাড়তে পারে


    বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উদ্যাপন পরিষদ চট্টগ্রাম এর আয়োজনে অনলাইন ওয়েবিনারে বক্তারা কোভিড পরবর্তী সস্তা শ্রমের কারণে শিশুশ্রম বাড়তে পারে
    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রোপিত কল্যাণকামী রাষ্ট্রে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা কাজ করছি যেখানে কোন পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠী থাকবে না।

    শিশুশ্রমকে জিইয়ে রেখে কোনভাবে কল্যাণকামি রাষ্ট্র হতে পারে না। এনজিও’রা
    তৃণমূল পর্যায়ে কমিউনিটি পার্টিসিপেশন/স্যোসাল নেটওয়ার্ক গঠনে কাজ করেছে। ফলে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে, মাতৃমৃত্যু হার কমেছে, বাল্য বিবাহ কমেছে। গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুশ্রম বাড়ছে, এটি অনেকটা ক্রীতদাস প্রথার মতো  এ অবস্থা দুর করতে হবে।

     দারিদ্রতার সুযোগে শ্রম ও শিক্ষার বিনিময়ে শিশুদের অপব্যবহার বন্ধ করতে
    হবে। বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আজ ১২ জুন শনিবার সকাল ১১টায় বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম আয়োজিত ঘাসফুল চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ড. মনজুর- উল-আমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনলাইন ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী একথা বলেন।


    অনুষ্ঠানে পিকেএসএফ’র চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই ছিলো বৈষম্য থাকবে না, মানবাধিকার নিশ্চিত হবে। বঙ্গবন্ধু প্রথম শিশু আইন ১৯৭৪ প্রণয়ন করেন। কল্যাণকামী রাষ্ট্র তৈরীর ব্যাপারে সবাইকে নজর দিতে হবে।

    তিনি সমৃদ্ধি কর্মসুচি’র মাধ্যমে ২০২টি ইউনিয়নে কিভাবে শিশুশ্রম থেকে শিশুদের
    বের করে আনা হয়- তার বর্ণনা দেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী মোঃ মজিবুল হক এমপি বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে শিশুশ্রম নিরসন কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। 

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এরোমা দত্ত এমপি বলেন, একেকটি শিশু আমাদের
    ইকোনোমিক্যাল ইউনিট। প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশীপ এর মাধ্যমে কারিগরী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা ও গণস্বাক্ষরতা অভিযান’র নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীব বলেন, ব্যবসা বান্ধব বাজেট নয় শিক্ষা বান্ধব বাজেট চাই! শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এর সচিব কে এম আবদুস সালাম প্যানেল আলোচক এর বক্তব্যে বলেন, কোভিড-১৯ এব কারণে সরকারের সবরকম অর্জনে বাধা এসেছে, এজন্য সরকার অনেক সেফটিনেট প্রোগ্রাম নিয়েছে, হতাশা হওয়ার কিছু নেই, তবে বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ আছে।

    মন্ত্রণালয় এপর্যন্ত ৮টি সেক্টরকে শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা করেছে। প্রাক্তন মুখ্য সচিব ও ঘাসফুল
    সাধারণ পরিষদের সদস্য আবদুল করিম বলেন, সরকার শিশুদের কল্যাণে যুগপোযোগী আইন প্রণয়ন করেছে। কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

    বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন বাস্তবায়নে প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা
    করে তিনি বলেন, বিশেষ করে ওসি, ইউএনও, ডিসি’রা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপ অথরিটি’র সচিব এবং সি ইও সুলতানা আফরোজ বলেন, শুধুমাত্র ব্রিজ-কালভার্ট বা রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন নয়, সামাজিক উন্নয়নেও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপ অথরিটি’র কাজ করার সুযোগ রয়েছে। 

    প্রাক্তন সচিব মাফরুহা সুলতানা, বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগগুলো একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে নিতে হবে এবং এজন্য জনমত গঠন করতে হবে। এ্যাকশান এইড বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ দরকার,স্কিল ডেভেলাপমেন্টে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ছেলে
    শিশুরাও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, এবিষয়েও নজরদারি বাড়াতে হবে। ইউসেপ বাংলাদেশ এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক দিদারুল আনাম চৌধুরী বলেন, ইউসেপ শ্রমে নিয়োজিত শিশুদের শিক্ষা ও তাদের স্কিল ডেভেলাপমেন্টে কাজ করছে। 

    ইউসেপ চেয়ারম্যান ও ঘাসফুল এর নির্বাহী সদস্য পারভীন মাহমুদ এফসিএ বলেন, শিশুশ্রমের উপসর্গ
    নয়, মুল কারণগুলো উদঘাটন করে সেখানে কাজ করতে হবে। কল্যাণকামী রাষ্ট্রের বীজ বপন করে যাওয়ার জন্য তিনি বঙ্গবন্ধু’র প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। 

    অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম এর আহবায়ক ও ঘাসফুল এর সিইও আফতাবুর রহমান জাফরী বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসের

    প্রতিপাদ্যে “এখনই সময় এগিয়ে আসুন, মুজিব বর্ষের আহান শিশুশ্রমের অবসান” এর উপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের নিয়ে কাজ করতে সমন্বিত ও যুগোপযোগী পরিকল্পনা প্রয়োজন।

     বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম এর সদস্য সচিব নার্গিস সুলতানা শিশুশ্রম নিরসনে ১২টি সুপারিশমালা
    পাঠ করে শুনান। সুপারিশগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল  ২০২৫ সালের মধ্যে সবধরনের শিশুশ্রম বন্ধে আইনসমুহের প্রয়োজনে পর্যালোচনা ও সংশোধনের সুপারিশ।

    জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মকৌশলে শিশুশ্রমকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্ব দেয়া।
    সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে নেয়া শিশুশ্রম নিরসনে নেয়া সকল কর্মকান্ডকে সমন্বিত করতে আরো বেশী জোরালো ভুমিকা রাখা।

    অর্থনীতিতে কোভিডের প্রভাবে দেশে দারিদ্র্য পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, ফলে শিক্ষার্থীদের বড় অংশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির অবনতির শিকার হচ্ছে। যে কারণে এখন থেকে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া।
    অনুষ্ঠানে শিশু প্রতিনিধি মেঘলা সুত্রধর এবং টেম্পু হিউম্যান হলার পরিবহণ সমিতির সভাপতি দিলীপ সরকার বক্তব্য রাখেন।

    এছাড়াও পুরো আয়োজনে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ রচিত গান “স্বাধীনতার চেতনা দিয়ে
    দেশটাকে গড়বো” এবং ঘাসফুল পরাণ রহমান স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশনায় “আমরা কচি, আমরা কাঁচা, সবুজ কণার দল”, ঘাসফুল সেকেন্ড চান্স এডুকেশন কর্মসুচি’র ঝরেপড়া ও শ্রমজীবী শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায়, ‘আমরা শিশু, আমাদেরও আছে অধিকার’ টাইটেলের তিনটি গান পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে সংযুক্ত ছিলেন আইএলও’র প্রোগ্রাম এ্যাসিসটেন্ট মোঃ আমিনুল ইসলাম, বিভাগীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান কার্যালয়’র উপ মহাপরিদর্শক আবদুল্লাহ আল সাকিব মোবাররাত, জেলা প্রশাসক কার্যালয়, চট্টগ্রাম’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান, শ্রম ও কর্মসংস্থান কার্যালয়’র পরিদর্শক (সাধারণ) বিশ্বজিৎ শর্মা, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী চট্টগ্রাম’র জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুল আবছার ভূঁইয়া, ব্র্যাক’র বিভাগীয় প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম মজুমদার, ইপসা’র প্রধান
    নির্বাহী আরিফুর রহমান, মমতা’র প্রধান নির্বাহী আলহাজ্ব রফিক আহমদ, কোডেক’র নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশীদ আলম, বিটা’র নির্বাহী পরিচালক শিশির দত্ত, ইলামা’র প্রধান নির্বাহী জেসমিন সুলতানা পারু, বিবিএফ’র প্রধান নির্বাহী উৎপল, বড়ুয়া, যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার’র নির্বাহী পরিচালক ইয়াছমীন পারভীন, সংসপ্তক’র প্রধান নির্বাহী লিটন চৌধুরী, ওর্য়াল্ড ভিশন বাংলাদেশ’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার রবার্ট কমল সরকার, কারিতাস’র আঞ্চলিক পরিচালক রিমি সুবাস দাশ, মনিষা’র নির্বাহী পরিচালক আমজাদ হোসেন হীরু, স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশন’র প্রধান নির্বাহী মোঃ আলী শিকদার, উৎস’র নির্বাহী প্রধান মোস্তফা কামাল যাত্রা, উপকূল সমাজ
    উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জোবায়রুল আলম, ভাফুসড’র সম্বনয়কারী মোঃ জসীমউদ্দিন খন্দকার, আইডিএফ’র প্রোগ্রাম পরিচালক সুদর্শন বড়ুয়া, যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার’র পরিচালক সাইদুল আরেফিন, অপারাজেয় বাংলাদেশের জিনাত আরা বেগম, ইনসিডিন বাংলাদেশ‘র পরিচালক মো রফিকুল আলম প্রমুখ।

    সবশেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. মনজুর-উল-আমিন চৌধুরী আজকের আলোচনা থেকে উঠে আসা বিষয়গুলো চর্চা ও বাস্তবায়নে সকলকে সমন্বিত উপায়ে অংশগ্রহণের আহবান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।


    প্রকাশিত: শনিবার ১২ জুন, ২০২১

    Post Top Ad