Header Ads

parkview
  • সর্বশেষ আপডেট

    পাহাড়তলী বধ্যভূমির জমি ২৬ মার্চের মধ্যে অধিগ্রহণের দাবি


    পাহাড়তলী বধ্যভূমির ১ দশমিক ৭৫ একর জমির সম্পূর্ণ অংশ ২৬ মার্চের মধ্যে অধিগ্রহণ করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে মানবন্ধন ও উন্মুক্ত সংবাদ সম্মেলন থেকে।  

    পাহাড়তলী বধ্যভূমি রক্ষা পরিষদ’ এর আয়োজনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

    এই কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে বধ্যভূমির পুরো জমি অধিগ্রহণ না হলে লাগাতার কর্মসূচি পালনের ঘোষণাও দেয়া হয়।  

    অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. গাজী সালেহ উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামে মোট ১১১টি বধ্যভূমি থাকলেও একটি বধ্যভূমিও রক্ষা করা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। এই পাহাড়তলী বধ্যভূমি শুধু টিকে আছে আমাদের মামলার কারণে। ১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী রায়েরবাজার ও পাহাড়তলী বধ্যভূমি রক্ষার নির্দেশ দিলেও তা হয়নি।  

    তিনি বলেন, এই বধ্যভূমি রক্ষার জন্য লড়াই করায় আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। টাকার প্রস্তাব দেয়া হয়, জমির প্রস্তাবও দেয়া হয়। এটা সংরক্ষণের কথা ছিল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের। তখনো মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় হয়নি। আমরা কোনো স্মৃতিই সংরক্ষণ করতে পারিনি বলে মানুষ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানে না। এটা আমাদের ব্যর্থতা।  

    গাজী সালেহ উদ্দিন বলেন, এ বধ্যভূমি নিয়ে একের পর এক ষড়যন্ত্র হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে গেলে বারবার মামলার অজুহাত দেয়া হয়। পরে উচ্চ আদালতের আদেশও এনেছি। কিন্তু প্রকল্প আর আগায় না। এই বধ্যভূমি সংরক্ষণের জন্য প্রায় পৌনে সাত কোটি টাকা প্রাক্কলন ধরা হয়েছে। তাদের বলেছি, আমাদের ২০১৪ সালের রায় আছে, ২০১৮ সালের আইন সেখানে খাটবে না।  

    তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ আগেও মন্ত্রণালয়ে গিয়েছি, বলেছি এটা আদালতের রায় অনুসারে না হলে আমরা মামলা করব। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়েছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, প্রয়োজনে মন্ত্রী থেকে বিশেষ বরাদ্দ নেবেন। ২৬ মার্চের আগেই অধিগ্রহণ করতে হবে। এখানে হাজার হাজার বাঙালিকে হত্যা করা হয়েছে। তা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।  

    সাংস্কৃতিক সংগঠক ও প্রমা সভাপতি রাশেদ হাসানের সঞ্চালনায় মানববন্ধন চলাকালে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নাট্যজন প্রদীপ দেওয়ানজি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন অধ্যাপক হোসাইন কবির, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ডিন অধ্যাপক এবিএম আবু নোমান, গণজাগরণ মঞ্চ চট্টগ্রামের সমন্বয়ক শরীফ চৌহান, সাংস্কৃতিক সংগঠক সুনীল ধর, শহীদ পরিবারের সদস্য মো. শাহাবুদ্দিন আঙ্গুর, রাউফুল হোসেন সুজা ও আনোয়ার হায়দার, ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির চট্টগ্রাম জেলার কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক অনিক চৌধুরী, বিজয় একাত্তর সভাপতি আর কে রুবেল।  

    উপস্থিত ছিলেন নাট্যকার আহমদ কবীর, নাট্যজন মোস্তফা কামাল যাত্রা, অধ্যক্ষ সুকুমার দত্ত, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কাজল বরণ চৌধুরী, প্রতিকৃত সাংস্কৃতিক সংসদ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ডা. আলাউদ্দিন ভুঁইয়া, জোবায়দুর রশিদ, মাসরুর জামান মুকুট, সাজ্জাদ হোসেন, লোক থিয়েটারের খোকন মিয়া প্রমুখ।  

    সংবাদ সম্মেলনের আগে প্রদীপ দেওয়ানজি রচিত গীতি নকশা ‘বধ্যভূমি’ পরিবেশন করে নাট্যাধার। সংহতি জানিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেয় শোভন থিয়েটারসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন।

    প্রকাশিত: শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad