Header Ads

parkview
  • সর্বশেষ আপডেট

    শ্রীপুরে মসজিদের ইমাম ও খতিবকে জুতা পেটা করলো ওয়ার্ড আ.লীগ নেতা!

    শ্রীপুরে মসজিদের ইমাম ও খতিব
    বিক্ষোভ মিছিল

    মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, গাজীপুরঃ- গাজীপুরের শ্রীপুরে মসজিদের ইমাম ও খতিবকে জুতা দিয়ে পেটালেন ওয়ার্ড আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক।

    আজ শনিবার গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা উত্তর চকপাড়া বায়তুন নূর জামে মসজিদের মুসুল্লীরা ইমামকে জুতাপেটা করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভ মিছিল শেষে অভিযুক্তের বিচার দাবী করে বক্তব্য রাখেন  মুসুল্লিরা।

    তাদের দাবী মসজিদের ইমামকে মারধর করেছে, জুতা দিয়ে পিটিয়েছে মাওনা ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম।

    মসজিদের সভাপতি মোঃ আবু সায়েম বলেন, গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১১ টার সময় হুজুর তাঁর রুমেই ঘুমিয়ে ছিলেন। পাশের বাড়িতে গরু জবেহ করার জন্য ইমাম সাহেবকে ডাকছিলেন এক যুবক।
    হুজুর উঠছিলেন না, কোনো সাড়া শব্দও করছিলেন না। এমন সময় পাশের রুমেই শুয়ে থাকা ওয়ার্ড আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম হুজুরকে চিল্লাইয়া অকথ্য ভাষার গালি-গালাজ শুরু করেন।

    এক পর্যায়ে হুজুরের ঘুম ভাঙলে তিনি বলেন, দেখুন সারাদিন অনেক পরিশ্রম করেছি তাছাড়া গতরাতেও অনুষ্ঠানের কারণে ঘুমাতে পারিনি। কেনো ডাকছেন বলুন।  রফিক গালি দিচ্ছে আর বলছে আপনাকে টাকা দিয়ে রাখিনি,ডাকলে উঠেন না কেনো?

    তখন হুজুর বলেনন, আমি শুনিনি, কিভাবে উঠবো? আর আপনি এভাবে গালিগালাজ করছেন কেনো? 
    আমি আপনার কাছে জবাব দিতে রাজি নই, প্রয়োজনে আমার মসজিদ কমিটির কাছে জবাব দিবো, দয়া করে এভাবে গালি দিবেন না। এটুকু বলতেই রফিক পায়ের জুতা খুলে ইমাম সাহেব কে পিটাতে শুরু করেন। পরে হুজুর নিজেকে বাঁচাতে দৌড়িয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। তিনি আরো বলেন,


    এই ঘটনা এলাকার অনেকেই দেখেছে এবং রাতেই আমাকে ফোনে জানিয়েছে। ফজরের নামাজ পরে আমি মুসুল্লিদের সাথে বসি এবং হুজুর কে মারার সত্যতা পাই। আমরা এই অন্যায়ের কঠোর বিচার দাবী করছি। হুজুর অনেকদিন ধরেই আমাদের মসজিদের ইমাম হিসেবে রয়েছেন। তিনি খুব ভালো মানুষ। এ ব্যাপারে আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

    মসজিদের ইমাম, মুফতি মাওলানা মোঃ আব্দুল মজিদ জানান, কোনো অপরাধ না করে এভাবে কেউ আমাকে জুতা দিয়ে পিটাবে, কিভাবে সহ্য করবো?  রফিক আমাকে শুধু জুতা দিয়ে মেরেই শান্ত হয়নি আজকে সকালেও হুমকি দিয়েছে, আমাকে নাকি জুতার মালা গলায় পরিয়ে রাস্তায় ঘুরাবে।

    মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি স্থানীয় মারকাযু সুন্নাতিন্নাবী (সাঃ) মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করি। অনেক শিক্ষার্থীদের পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআন শিক্ষা দিই। আমি কিভাবে মুখ দেখাবো? প্রথমে ঘটনাটি আমি কাউকে বলিনি, যারা ঘটনাস্থলে ছিলো তারাই সভাপতিকে জানিয়েছে। আলেম সমাজ ও আমার ছাত্রদের কাছে আমি কিভাবে মুখ দেখাবো? আল্লাহর রাসূলকে ভালোবেসে মুখে দাঁড়ি রেখেছি, সেই দাঁড়ি রাখা মুখে কিভাবে জুতা মারলো,বলতে পারবেন?

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম জানান, গতরাতে হুজুরের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়েছে। আমি তার গায়ে হাত দেইনি। তাছাড়া এর জন্য রাতেই হুজুরের কাছে দুঃখ্য প্রকাশ করে বিষয়টি মিটিয়ে নিয়েছি। এ ব্যাপার টি নিয়ে এলাকার কিছু লোক আমার বিরোদ্ধে রাজনীতি শুরু করেছে, সকালে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিষয়টি জটিল করছে অথচ আমি রাতেই শেষ করেছি।

    হুজুরকে কিছু করেননি বা মারেননি তাহলে দুঃখ্য প্রকাশ করেছেন কেনো? এমন প্রশ্নের উত্তরে রফিক বলেন, এইতো একটু খারাপ ব্যবহার করেছিলাম তাই ক্ষমা চেয়েছি।

    প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১

    Post Top Ad