Header Ads

parkview
  • সর্বশেষ আপডেট

    গাজীপুরের শ্রীপুরে বনের গাছ পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে কয়লা!

    মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, গাজীপুরঃ-  গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তালতলী গ্রামে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পূনরায় চুল্লি স্থাপন করে বনের কাঠ পুড়িয়ে কয়লা উৎপাদনে ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে একটি চক্র। সংরক্ষিত বানালের পাশে একদিকে বনের গাছ পাচার, অপরদিকে চুল্লির কালাে ধোঁয়ায় স্থানীয় পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযােগ করেছে অনেকেই।

    ইতিপূর্বে বিগত ২০১৮ সালে অভিযান চালিয়ে স্থানীয় প্রশাসন এসব চুল্লি গুড়িয়ে দিয়েছিলো।
    স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বন বিভাগের শ্রীপুর রেঞ্জ অফিসের আওতায় তেলিহাটি, তালতলী ও সাইটালিয়া গ্রামের ( সাইটমনিগড় ) কয়েকশত একরের সংরক্ষিত বনাঞ্চল গহিন অরন্যে ঘেরা ছিল কিছুদিন আগেও। বনবিভাগের চোখের সামনেই বনের ভূমি জবর দখল হচ্ছে, বনের গাছপালা কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র! সম্প্রতি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশে চুল্লি স্থাপন করে রাতের আধারে বনের গাছপালা  কেটে এনে আগুনে পুড়ে কয়লা উৎপাদন করছে বলেও অভিযােগ রয়েছে এলাকাবাসির।

    এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ওয়ার্ড সদস্য নামধারি আওয়ামীলীগ নেতা জয়নাল হাজারী তার সাথেই চুল্লি স্থাপন করেছেন জামাল উদ্দিন, জামান মিয়া, আজিজুল হক, জাকির হােসেন, মুজিবুর রহমান, ফিরুজ মিয়া ও নুরুল ইসলাম। ইতিপূর্বে স্থানীয় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে এসব চুল্লি ভেঙ্গে দিলেও করােনার লকডাউনের সময় ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে তারা।

    তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন সরকার জানান, সংরক্ষিত বনালের গহিন অরন্যে ঘেরা এই তালতলি গ্রাম এখন আর আগের অবস্থানে নেই।একদিকে বনের গাছপালা উজাড় হয়ে বনভূমি দখল হচ্ছে অপরদিকে বনের কাঠ পুড়িয়ে  কয়লা উৎপাদন করে ব্যবসা করছে একটি চক্র। গ্রামটিতে অসংখ্য মানুষের বসবাস, এসব চুল্লির কালাে ধোঁয়ার কারনে স্থানীয় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে।


    সংরক্ষিত বনালের পাশে এসব কয়লা তৈরীর কারখানা গড়ে তােলায় পরিবেশ তার ভারসাম্য হারাচ্ছে। স্থানীয়দের প্রতিবাদের কারনে ইতিপূর্বে এবার এসব চুল্লি ভেঙ্গে দিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। তবে ফের চুল্লি স্থাপন করা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। সাইটালিয়া গ্রামের আব্দুল কাদের অভিযােগ করেন, সংরক্ষিত বনালের যেসব প্রাণীদের বাস করার কথা ছিলো তা এখন আর নেই।

    এসব চুল্লির পাশাপাশি বনের ভিতরও বনের কাঠ পােড়ানাে হচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাঠ পুড়ানো আগুণের তাপে উত্তপ্ত থাকে পরিবেশ, এসব আগুন ও চুল্লির কালাে ধোঁয়ার আচ্ছন্ন হয়ে থাকে আশপাশের এলাকা। অনেক গাছপালা মারা যাচ্ছে, বসবাসের স্থান হারাচ্ছে প্রকৃতির নিরীহ প্রানীরা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে সমস্ত পৃথিবীতে নানা ধরনের কর্মসূচী চলমান থাকলেও আমরা চোখের সামনে  নিজেরাই  প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংস করছি।  এসব অবৈধ কর্মকান্ডের বিষয়ে জরুরী ভিক্তিতে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়ােজন।

    অভিযােগের বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড সদস্য জয়নাল হাজারী জানান, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের অনেকেই চুল্লি স্থাপনের মাধ্যমে কয়লার ব্যবসা করে আসছেন। তাদের দেখাদেখিতেই আমিও কয়েকটি চুল্লি স্থাপন করেছি। এগুলাের কোন অনুমােদন প্রয়ােজন আছে বলে তার কিছু জানা নেই। তবে বনবিভাগের কর্মকর্তাদের মাঝে মধ্যে কিছু দিতে হয়।

    শ্রীপুর উপজেলা বনকর্মকর্তা ( ফরেষ্ট রেঞ্জার ) আনিসুল হক জানান, সংরক্ষিত বনালের পাশে কেউ এভাবে কয়লা তৈরীর চুল্লি স্থাপন করতে পারে না, এটা অবৈধ। তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন।

    গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (এডি) আশরাফ উদ্দিন জানান, এসব কয়লা তৈরীর কারখানার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। জনসংখ্যার ঘনত্ব এলাকায় ধোঁয়া তৈরী করে পরিবেশ দূষণ করে থাকলে তা উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২০

    Post Top Ad