Header Ads

parkview
  • সর্বশেষ আপডেট

    কল পেলেই ত্রাণ নিয়ে ছুটে যান উখিয়ার ইউএনও

    কায়সার হামিদ মানিক, স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার। করোনাভাইরাস আতঙ্কে সারাদেশে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ, অভাব-অনটন। এর থেকে উখিয়াবাসীকে রক্ষা করতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথভাবে বাস্তবায়নে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী।

    মোবাইল ফোনকল পেলেই গ্রামগঞ্জে ত্রাণ নিয়ে ছুটে যান ওই কর্মকর্তা। শনিবার সকাল থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে ২২০ অসহায়, হতদরিদ্র, কর্মহীন পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।

    সরেজমিন দেখা যায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইউএনও নিকারুজ্জামান তার নিজস্ব গাড়িতে করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন। দিনের বেলায় যতক্ষণ অফিসে থাকেন, ওই সময় কখনও করোনাসংক্রান্ত সচেতনতামূলক মিটিং, কখনও অফিসে আগত অসহায় মানুষকে ত্রাণ বিতরণ, আবার কখনও কখনও রাস্তায় টহলে ব্যস্ত থাকতেন ওই ইউএনও। ইউএনও তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে উখিয়াবাসীকে বলেন, ‘আপনার সম্মানের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল।


    বর্তমান করোনাভাইরাস প্রতিরোধ পরিস্থিতিতে আপনি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, আপনার বাসায় খাবার সংকট থাকলে এবং সবার সামনে আপনি খাদ্য সহায়তা নিতে বিব্রতবোধ করলে অনুগ্রহ করে ০১৭৩৩৩৭৩২০৫ ফোন নম্বরে যোগাযোগ করুন। পরিচয় গোপন রেখে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা আপনার বাসায় পৌঁছে দেব।’

    গত দুদিনে উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের খেওয়াছড়ি, আদর্শগ্রাম, ভালুকিয়া, পাতাবাড়ী, রত্নাপালং, রাজাপালংসহ বিভিন্ন স্থানে ২২০ অসহায়, কর্মহীন পরিবারের মাঝে নিজে ত্রাণ পৌঁছে দেন ইউএনও।

    এভাবে গত চার দিনে ৪২০ পরিবারের মাঝে তিনি নিজেই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে অসহায় পরিবারে মাঝে হাসি ফুটিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সহায়তায় উপজেলার ৫ হাজারের অধিক পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন নিকারুজ্জামান।


    রাজাপালং ইউনিয়নের হিজলিয়া গ্রামের মৃত লিটন বড়ুয়ার স্ত্রী বিধবা জুবলী বড়ুয়া ও মৃত সুদর্শন বড়ুয়ার স্ত্রী বিধবা বীথিকা বড়ুয়া বলেন, অনেক ভয়ে ভয়ে ইউএনও স্যারকে ফোন করি। ফোন করার ৩০ মিনিটের মধ্যে ত্রাণ নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন ইউএনও নিকারুজ্জামান। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন মানবিকতা দেখে আমাদের চোখে পানি এসে যায়।

    রাজাপালং ইউনিয়নের বটতলী খালকাচাপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম একই গ্রামের ইয়াকুব আলীর স্ত্রী সাজেদা বেগম বলেন, লোকজনের কাছে শুনে ইউএনওকে ফোন দিলে তিনি দ্রুত আমাদের মধ্যে ত্রাণ নিয়ে ছুটে আসেন। ত্রাণ পেয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ইউএনও নিকারুজ্জামানের জন্য বিশেষ দোয়া করেন।এব্যাপারে জানতে চাইলে,ইউএনও নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন,করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে সরকারি নির্দেশনা মতে সচেতনতার লক্ষে সারাদেশের মতো উখিয়াতেও দোকানপাট, যানচলা চল,বন্ধ করে দেওয়ার পর খেটে খাওয়া মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়ে তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অসহায় হতদরিদ্র পরিবার গুলোর মাঝে কিছু খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি মাত্র।

    প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২০

    Post Top Ad